এটি ODERSA-র একটি অফিসিয়াল সাইট। কীভাবে বুঝবেন
অফিসিয়াল ডোমেইন

এই সাইটের ঠিকানা odersa.org দিয়ে শেষ হয়। সংস্থার প্রতিটি সেবা odersa.org-এর কোনো সাবডোমেইনেই থাকে, আর কোথাও নয়। আপনার ব্রাউজারের ঠিকানার ঘরে দেখানো ঠিকানা যদি odersa.org দিয়ে শেষ না হয়, তবে এই সাইট আমাদের নয়।

বিনামূল্যে, অ্যাকাউন্ট ছাড়াই

সবকিছু প্রথম মুহূর্ত থেকেই খোলা: কোনো নিবন্ধন নেই, কোনো অ্যাকাউন্ট নেই, কোনো পাসওয়ার্ড নেই, কোনো সাবস্ক্রিপশন নেই, কোনো বিজ্ঞাপন নেই। যাঁরা টাকা দেন তাঁদের জন্য আলাদা কিছু রাখা নেই, কারণ এখানে কিছুই টাকার বিনিময়ে নয়।

কোনো তথ্য সংগ্রহ নয়

এই সাইট আপনার পিছু নেয় না: কোনো ট্র্যাকার নেই, ট্র্যাকিং কুকি নেই, এই পাতাগুলোতে বসানো কোনো মাপার সরঞ্জামও নেই, আর আপনার যন্ত্রে কিছুই মাপা হয় না। আমাদের হোস্ট সমষ্টিগতভাবে অনুরোধ গোনে, উত্তর দেওয়া যেকোনো সার্ভার যেমন গোনে: একটি মোট সংখ্যা, কখনও কোনো প্রোফাইল নয়। আমাদের কথা বিশ্বাস করার দরকার নেই: আপনার ব্রাউজারের ডেভেলপার টুল খুলুন, নেটওয়ার্ক ট্যাবে যান, আর পাতাটি আবার লোড করুন। সাইট যা যা চায়, তার পুরো তালিকা আপনি দেখতে পাবেন। সবই odersa.org থেকে আসে, কিছুই অন্য কোথাও যায় না।

মুক্ত কনটেন্ট

কনটেন্ট CC BY 4.0 লাইসেন্সে প্রকাশিত। আপনি তা কপি করতে, অনুবাদ করতে, ছাপতে ও আবার বিতরণ করতে পারেন, আপনার ক্লাসের জন্যও, আপনার আপনজনের জন্যও, একটিমাত্র শর্তে: ODERSA-র নাম উল্লেখ করুন।

FrançaisEnglishEspañolالعربيةहिन्दीবাংলা中文

← ঘটনার লাইব্রেরি

ভাইরাল বার্তা ও চেইন মেসেজ


এই বিষয়ে 30টি ঘটনা

সহজ

এটা ফরওয়ার্ড করার আগে আপনার কী করা উচিত?

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই আপনি একটা মেসেজ পান: “ভাগ্যে বিশ্বাস করলে, দুপুরের আগে এটা ৫ জনকে পাঠান। ক্লিক করার ৪৮ ঘণ্টা পর আপনার সঙ্গে সুন্দর কিছু ঘটবে। কাউকে দেখাবেন না, না হলে ভাগ্য উলটে যাবে!” মেসেজটার সঙ্গে একটা সুন্দর সোনালি ছবি।

  1. মেসেজটা কোনো অফিশিয়াল অ্যাপ থেকে এসেছে কিনা যাচাই করা
  2. মেসেজটা আসলে কে শুরু করেছে খুঁজে দেখা
  3. যেভাবেই হোক ফরওয়ার্ড করে দেওয়া, এতে তো কিছু হারানোর নেই
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: মেসেজটা আসলে কে শুরু করেছে খুঁজে দেখা

“ভাগ্য”-র প্রতিশ্রুতি দেওয়া আর “উলটে যাওয়া ভাগ্যের” ভয় দেখানো, কোনো স্পষ্ট উৎস ছাড়াই: এটা একদম চেনা একটা চেইন মেসেজ। “কাউকে দেখাবেন না” কথাটাই কাউকে প্রশ্ন করতে বাধা দেয়। এর কার্যকারিতা দাঁড়িয়ে আছে তাড়াহুড়ো আর ভয়ের ওপর, কোনো জাদুর ওপর নয়। ঠিক কাজটা হলো মেসেজটা প্রথমে কে লিখেছে আর কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে দেখা: খুঁজলে প্রায় সবসময়েই দেখা যায়, কেউই জানে না।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো? · 1. কে বলছে?

যাচাই করার প্রথম কাজটা কী?

একটা পাড়ার গ্রুপে একটা মেয়ের ছবি ঘুরছে: “সতর্কতা: গতকাল রাতে শহরের কেন্দ্রের কাছে একটা বাচ্চা নিখোঁজ হয়েছে। দেখতে পেলে জরুরি সেবায় ফোন করুন। যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন!” মেসেজটায় কারও নাম নেই।

  1. সতর্কতাটা সত্যি কিনা জিজ্ঞেস করতে জরুরি সেবায় ফোন করা
  2. সাহায্য করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করা
  3. কে এই সতর্কবার্তা পোস্ট করেছে খুঁজে দেখা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কে এই সতর্কবার্তা পোস্ট করেছে খুঁজে দেখা

স্পষ্ট অফিশিয়াল উৎস ছাড়া একটা সতর্কবার্তা একটা পুরনো ছবির পুনর্ব্যবহার, একটা প্রতারণা বা একটা বিকৃতি হতে পারে। ঠিক কাজটা হলো আগে খুঁজে দেখা, কে এটা পোস্ট করেছে, তারপর পুলিশ বা অফিশিয়াল কর্তৃপক্ষের কাছে যাচাই করা। নিখোঁজের সত্যিকারের সতর্কতা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই আসে, তাদের অফিশিয়াল মাধ্যমে। জরুরি সেবার নম্বরে ফোন করে গুজব যাচাই করতে চাওয়া উলটে ওই লাইনটাই আটকে রাখে, যেটা সত্যিকারের বিপদের জন্য খালি থাকা দরকার। শেয়ার করার আগে শুরুতে ফিরে যেতে হয়: কে সবার আগে পোস্ট করেছে? কোন অ্যাকাউন্ট থেকে? সত্যিই কোনো অফিশিয়াল নিখোঁজ সংবাদ আছে কি?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 2. কোন উৎস?

এটা কেন একটা ভুয়া চেইন মেসেজ?

একজন বন্ধু আপনাকে ফরওয়ার্ড করেন: “জরুরি: নতুন একটা ফাঁক ধরা পড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করবেন না, হ্যাকাররা আপনার তথ্যে ঢুকে পড়তে পারে। অফিশিয়াল নিরাপত্তা মেসেজের জন্য অপেক্ষা করুন। পরিচিতদের পাঠিয়ে দিন!” কোনো উৎস নেই, শুধু এই লেখাটা।

  1. কারণ সতর্কতাটা পরিষেবাটার নিজের কাছ থেকে আসেনি
  2. কারণ একটা সত্যিকারের ফাঁকের জন্য ৪৮ ঘণ্টা অনেক লম্বা সময়
  3. কারণ আসল টেকনিশিয়ানরা কখনও সতর্ক করেন না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ সতর্কতাটা পরিষেবাটার নিজের কাছ থেকে আসেনি

“জরুরি” বলে তাড়াহুড়ো, উৎসের অনুপস্থিতি আর ফরওয়ার্ড করার নির্দেশ: এগুলোই চেইন মেসেজের ছাপ। একটা সত্যিকারের নিরাপত্তা সতর্কতা অফিশিয়াল পরিষেবা থেকে তার নিজের মাধ্যমে আসে (যাচাই করা অ্যাকাউন্ট, ওয়েবসাইট, ঘোষিত ইমেল), নির্দিষ্ট খুঁটিনাটি নিয়ে; নাম-স্বাক্ষরহীন একটা চেইন মেসেজ থেকে নয়। রহস্যময় সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ঝাপসা একটা মেসেজ শুধু নিজেকে ছড়াতেই চায়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো?

গোলমালটা কোথায়?

আপনি পড়েন: “৩ মাসের মধ্যে দোকান থেকে পাস্তা উঠে যাবে! একটা বড় কোম্পানি দেশের শেষ কারখানাটা বন্ধ করে দিচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্য বাঁচাতে এই আবেদনে সই করুন! এখানে সই করুন: [লিংক]। শেয়ার করুন!” কোনো কোম্পানির নাম নেই, তথ্যের কোনো তারিখ বা উৎস নেই।

  1. যাচাই করার মতো একটা খুঁটিনাটিও নেই
  2. লিংকটা অদ্ভুত লাগছে
  3. পাস্তা এমন জরুরি কিছু না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: যাচাই করার মতো একটা খুঁটিনাটিও নেই

একটা সত্যিকারের আবেদন বা সতর্কতা যাচাই করা যায় এমন তথ্যের ওপর দাঁড়ায়: কোম্পানির নাম, তারিখ, তথ্যের উৎস। এখানে এই তিনটেরই একটাও নেই, আর প্রমাণের জায়গা নিয়েছে আবেগ। “পাস্তা উঠে যাবে” কথাটা বিশাল আর ঝাপসা: ভয় দেখানোর জন্য নিখুঁত, অথচ যাচাই করার কিছু নেই। সই করার আগে চিনে নিতে হয়: কে শুরু করছে? কোন তথ্যের ওপর?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো?

এখানে দেওয়া প্রমাণটার কোনো দাম নেই কেন?

বিকেলের শেষে একটা মেসেজ আসে: “আমি এসব বিশ্বাস করি না, কিন্তু এই মেসেজটা ৭ জনকে পাঠিয়েছিলাম আর সেদিনই একটা চাকরির প্রস্তাব পেয়ে গেছি! আপনিও ৭ জনকে পাঠান। চেইনটা ভাঙবেন না!” একজন বন্ধু এটা আগেই ফরওয়ার্ড করেছেন।

  1. কারণ মানুষটা সত্যি বলছে কিনা আমরা জানি না
  2. কারণ একটা ভালো কাকতালীয় ঘটনা কিছুই ব্যাখ্যা করে না
  3. কারণ চেইন মেসেজ কখনও কাজ করে না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ একটা ভালো কাকতালীয় ঘটনা কিছুই ব্যাখ্যা করে না

“মেসেজটা পাঠিয়েছি আর এটা ঘটেছে” খুব জোরালো একটা যুক্তি, কিন্তু এটা কাকতালীয়, প্রমাণ নয়। “আমার সঙ্গে এটা হয়েছে” কথাটা হাজারটা অন্য কারণেও সত্যি হতে পারে: চাকরির প্রস্তাব সত্যিকারের কারণেই আসে (পাঠানো আবেদন, পরিচিতির জাল)। মেসেজটা শুধু কৃতিত্বটা চেইনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। যিনিই ফরওয়ার্ড করেন তিনিই নিজের “সফলতার” গল্প বলতে পারেন, আর তাতেই ফাঁদটা আরও শক্ত হয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো? · 10. যদি আমারই ভুল হয়?

এটা একটা সত্যিকারের প্রতিযোগিতা হওয়ার জন্য কী নেই?

একটা পোস্ট দেখা যায়: “একটা গেম কনসোল জিতে নিন! খুব সহজ: এই পোস্টে লাইক দিন, নিজের পাতায় শেয়ার করুন, তারপর ১০ জন বন্ধুকে ট্যাগ করুন। ফল ৩ দিনের মধ্যে!” স্বাক্ষরে কোনো অফিশিয়াল নাম নেই, কোনো নিয়মও নেই।

  1. বিজয়ীর সংখ্যা
  2. নির্দিষ্ট শেষ তারিখ
  3. আয়োজক কে, সেটাই বলা নেই
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: আয়োজক কে, সেটাই বলা নেই

একটা অফিশিয়াল প্রতিযোগিতাকে আয়োজকের নাম বলতে হয়, অফিশিয়াল নিয়ম আর অংশ নেওয়ার আইনি শর্ত ঠিক করতে হয়, আর পুরস্কারের উৎস দেখাতে হয়। এই মেসেজটা শুধু “জিতে নিন” বলছে; কে, কীভাবে, কার হয়ে, কিছুই বলছে না। এটা শেয়ার ফুলিয়ে তোলার একটা কৌশল (“যত ট্যাগ করব, তত জেতার সম্ভাবনা”), অথচ সত্যিকারের কোনো প্রতিদান নেই। আর ব্যক্তিগত তথ্য (কে কাকে ট্যাগ করছেন) হয়ে যায় পণ্য।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 7. এটা আমাকে কী বেচছে? · 1. কে বলছে?

এই পরামর্শটা কেন বিপজ্জনক?

একটা ঝড়ের সময় একটা মেসেজ ঘুরছে: “বান হলে বাড়ি ছেড়ে বেরোবেন না। বাড়ির সবচেয়ে উঁচু ঘরে থাকুন, জানালা বন্ধ করুন আর অপেক্ষা করুন। শেয়ার করলে জীবন বাঁচে!” কোনো অফিশিয়াল উৎস নেই, শুধু এটুকুই।

  1. কারণ এতে যথেষ্ট তথ্য নেই
  2. কারণ এর কোনো অফিশিয়াল উৎস নেই
  3. কারণ বান সবসময় মানুষ মারে
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ এর কোনো অফিশিয়াল উৎস নেই

সত্যিকারের নিরাপত্তার নির্দেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসে (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুরসভা, জেলা প্রশাসন), তাদের অফিশিয়াল মাধ্যমে। এই মেসেজটা তাদের কারও কাছ থেকে আসেনি, আর পরিস্থিতি অনুযায়ী সত্যিকারের পরামর্শ এর উলটোও হতে পারে: ভবনটা যদি ডুবে যেতে থাকে, তাহলে “ভেতরেই থাকুন” খারাপ পরামর্শ হতে পারে। একটা মেসেজে পাওয়া নিরাপত্তার পরামর্শ মানার আগে উৎসটা যাচাই করতে হয়: এটা কি অফিশিয়াল? এটা কি ঠিক আমার পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 3. কোন তারিখ?

এই সতর্কবার্তাটা ছড়ানোর আগে আপনি কী করবেন?

অভিভাবকদের একটা গ্রুপে একজন বাবা লেখেন: “সতর্ক থাকুন: বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্কুলের গেটে কেউ বাচ্চাদের ‘ফ্রি’ মিষ্টি বিলি করছে। এতে মাদক থাকতে পারে! শিক্ষক আর অন্য অভিভাবকদের জানিয়ে দিন!” আর কোনো খুঁটিনাটি নেই, কোনো তারিখও নেই।

  1. আরেকজন অভিভাবক নিশ্চিত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা
  2. বাচ্চাদের বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার করা
  3. সরাসরি স্কুলের কাছে যাচাই করা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: সরাসরি স্কুলের কাছে যাচাই করা

বাচ্চাদের নিয়ে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটা গুজবের জন্যও নিখুঁত খেলার মাঠ। তারিখ, নির্দিষ্ট জায়গা বা অফিশিয়াল নিশ্চিতকরণ ছাড়া একটা সতর্কবার্তা পুরনো গুজবের নতুন চেহারা বা একেবারে বানানো হতে পারে। ঠিক পথটা: নির্ভরযোগ্য উৎসের কাছে, অর্থাৎ স্কুলের নিজের কাছে, সোজা প্রশ্নগুলো করা: তারা কি কিছু জানিয়েছে? কার কাছে? ঠিক কোন তারিখে? সত্যি হলে তারা জানাবে। মিথ্যা হলে আপনি আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বেঁচে গেলেন।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 2. কোন উৎস?

“কাজ করে, আমি পরীক্ষা করেছি” কেন প্রমাণ নয়?

একটা গ্রুপের মেসেজ: “এই জিনিসটা আমার কাজের ক্ষমতা বদলে দিয়েছে: প্রতিদিন সকালে নিজের লক্ষ্যটা লিখে ১০ বার পড়ুন। আমি ৩ দিন করেছি আর ইতিমধ্যেই ২টা কাজ হাসিল করে ফেলেছি! সত্যিই কাজ করে! করে দেখুন!” আর কোনো খুঁটিনাটি নেই।

  1. কারণ একজনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ হতে পারে না
  2. কারণ ৩ দিন যথেষ্ট লম্বা সময় নয়
  3. কারণ মানুষটা নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ একজনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ হতে পারে না

“আমি পরীক্ষা করেছি আর কাজ করেছে” খুব বিশ্বাস জাগানো কথা, কিন্তু প্রমাণ নয়। একটা ভালো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অন্য কারণেও আসতে পারে, আর একজনের যেটা কাজ করে সেটা অন্যদের ক্ষেত্রে কাজ না-ও করতে পারে। নতুন একটা অভ্যাসের ৩ দিন পর মানুষ এমনিতেই উৎসাহে থাকে (প্লাসিবো প্রভাব)। ওই দুটো সফলতা পরিশ্রম বা কপাল থেকে আসতে পারে, অভ্যাসটা থেকে নয়। এই যুক্তিটা সহজে ছড়ায় কারণ এটা আন্তরিক, আর সেটাই বিপদ: মেসেজটা বন্ধু থেকে বন্ধুতে ঘুরে প্রতিবার আরও ভারী হয়ে ওঠে।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো? · 10. যদি আমারই ভুল হয়?

এই মেসেজটা কিছুই বাঁচায় না কেন?

আপনার স্টেটাসে প্রস্তাব আসে: “এই লেখাটা আপনার প্রোফাইলে কপি-পেস্ট করুন: আমি এই সোশ্যাল মিডিয়াকে আমার ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি না। আইন অনুযায়ী তাদের এই ঘোষণা মানতে হবে। শেয়ার করুন!” আইনের কোনো উল্লেখ নেই।

  1. কারণ একটা কপি-পেস্টের কোনো আইনি মূল্য নেই
  2. কারণ এটা একজন নোটারির কাছে গিয়ে করতে হয়
  3. কারণ সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবেই হোক আপনার তথ্য নিয়ে নেয়
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ একটা কপি-পেস্টের কোনো আইনি মূল্য নেই

তথ্যের ওপর সত্যিকারের অধিকার আসে আইন আর প্ল্যাটফর্মের অফিশিয়াল সেটিংস থেকে, কপি করা একটা মেসেজ থেকে নয়: একটা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারের শর্ত একটা স্টেটাস দিয়ে এড়ানো যায় না। এই চেইনটা খেলে ভয় আর নিয়ন্ত্রণের একটা মিথ্যা অনুভূতির ওপর: “আমি নিজেকে বাঁচাতে কিছু একটা করলাম”। এটা ছড়ায় কারণ কিছু খরচ না করেই মনকে শান্ত করে, অথচ আপনার আসল অধিকারে কিছুই বদলায় না।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো? · 7. এটা আমাকে কী বেচছে?

মাঝারি

কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজটা এটা ছড়িয়ে পড়া থেকে আটকাতে পারত?

গত এক সপ্তাহ ধরে, পাড়ার গ্রুপে এটা ঘুরছে: “শহরের কেন্দ্রের দোকানটা আগামী মাসে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক মানুষ চাকরি হারাবে। আমার এক কাজিন এটা এমন একজনের কাছে শুনেছে যে সেখানে কাজ করে।” কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নেই, কে বলেছে তাও স্পষ্ট নয়।

  1. দোকানের অফিশিয়াল ঘোষণাটা খোঁজা
  2. কর্মীদের সতর্ক করার জন্য শেয়ার করে দেওয়া
  3. অপেক্ষা করা আর দেখা আর কেউ এটা বলছে কিনা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: দোকানের অফিশিয়াল ঘোষণাটা খোঁজা

“আমার কাজিন এটা শুনেছে” হলো স্থানীয় গুজবের একদম চেনা উৎস। এটা মানুষ থেকে মানুষে ঘুরে বেড়ায়, প্রতিটা ধাপে একটু একটু বড় হয়। যাচাই করার জন্য সরাসরি একটা উৎস খুঁজুন: দোকানের নিজের বিবৃতি, স্থানীয় সংবাদপত্রের কোনো প্রবন্ধ; দ্বিতীয় হাতের সাক্ষ্য নয়। একটা গুজবের মধ্যে সত্যি কিছু থাকতে পারে (পরিকল্পিত বন্ধ) কিন্তু বাকি সবটাই ভুল হতে পারে (তারিখ, কারণ)। যাচাই করলে ক্ষতি হওয়ার আগেই চক্রটা থেমে যায়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 5. আর কে বলছে এই কথা?

এই উৎসটা কেন খুবই দুর্বল?

একটা মেসেজ ঘুরছে: “আমার চেনা একটা মেয়ের এক বান্ধবী কাল রাতে স্টেশন থেকে বেরিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। ওর কাছে ফোন ছিল না। হামলাকারীরা আরও শিকার খুঁজছে। রাতে স্টেশনের কাছে কখনও একা বেরোবেন না। গুরুতর ব্যাপার বলেই শেয়ার করছি।” কারও নাম নেই, নির্দিষ্ট তারিখ নেই।

  1. কারণ হামলা খুবই বিরল ঘটনা
  2. কারণ এটা বন্ধুর বন্ধুর কাছ থেকে আসা কথা
  3. কারণ শেয়ার করার চেয়ে পুলিশে ফোন করা ভালো
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ এটা বন্ধুর বন্ধুর কাছ থেকে আসা কথা

“আমার বন্ধু এমন একজনকে চেনে যে…” গুজবের একদম চেনা ফাঁদ। প্রতিটা ধাপে তথ্য বিকৃত হতে পারে, আর প্রতিটা হাত ঘুরে গল্পটা আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। শেষ মেসেজটার সঙ্গে আসল ঘটনার (যদি সেটা আদৌ ঘটে থাকে) যাচাই করার মতো কোনো সম্পর্কই থাকে না। একটা সতর্কবার্তা ছড়ানোর আগে খুঁজতে হয়: পুলিশের কোনো সত্যিকারের অফিশিয়াল তথ্য আছে কি? কোনো প্রবন্ধ? না থাকলে, এটা শুধু যাচাই করা যায় না এমন একটা গল্পকে বড় করে তোলা।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 2. কোন উৎস?

এই সতর্কতাটা ছড়ানোর আগে কী যাচাই করবেন?

একটা গ্রাফসহ একটা ছবি ঘুরছে: “বিদেশে নতুন একটা মহামারি ধরা পড়েছে। নিশ্চিত আক্রান্ত: এক সপ্তাহে ১৫০। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মানুষকে সাবধান থাকতে বলছে।” কোনো তারিখ নেই, গ্রাফের কোনো উৎস নেই, ছবিটা ঝাপসা।

  1. সংখ্যাটা: ১৫০ কি অনেক?
  2. শুধু শেয়ার করে দেওয়া, কারণ সতর্ক তো করতে হবে
  3. তারিখ, গ্রাফের উৎস আর কোন সংস্থা এটা দিয়েছে
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: তারিখ, গ্রাফের উৎস আর কোন সংস্থা এটা দিয়েছে

উৎস আর তারিখ ছাড়া ছবিতে বসানো একটা গ্রাফ বানানো সহজ। এই সতর্কতাটা বেশি “গুরুত্বপূর্ণ” দেখায়, কিন্তু এতে কিছুই নেই। যাচাই করার তিনটে জিনিস: তারিখ, গ্রাফটা কোন অফিশিয়াল সংস্থার, আর কোনো অফিশিয়াল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান একই তথ্য দিচ্ছে কিনা। মহামারির সত্যিকারের সতর্কতার জন্য অফিশিয়াল সাইটে খুঁজুন (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জনস্বাস্থ্যের সংস্থাগুলো)। সত্যিকারের ঝুঁকি থাকলে এই সংস্থাগুলো অফিশিয়ালভাবে জানায়, অনলাইনে পাওয়া ঝাপসা একটা মেসেজ দিয়ে নয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 3. কোন তারিখ?

এখানে কোন অভ্যাসটা নেই?

মেসেজ: “৫জি ফোনই ভাইরাস বানায়। একজন গবেষক দেখিয়েছেন ৫জি-র তরঙ্গ কোষের ওপর প্রভাব ফেলে। এই কারণেই এত মানুষ একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমাদের থেকে এটা গোপন করার আগেই ফরওয়ার্ড করুন!” গবেষকের কোনো উৎস নেই।

  1. বৈজ্ঞানিক শোনাচ্ছে বলেই বিশ্বাস করা
  2. গবেষকের উৎসটা যাচাই করা
  3. আরও নির্দিষ্ট প্রমাণ চাওয়া
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: গবেষকের উৎসটা যাচাই করা

মেসেজটা একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মতো শোনায় (“৫জি-র তরঙ্গ কোষের ওপর প্রভাব ফেলে”), অথচ গবেষকের নাম নেই, উৎস নেই। একটা সত্যিকারের বৈজ্ঞানিক ফলের সঙ্গে যাচাইযোগ্য সূত্র থাকে। “একজন গবেষকের” দাবি ছড়ানোর আগে সেটা খুঁজে বের করার মতো হতে হবে, আর তথ্যটা মিলিয়ে নিতে আরও কিছু স্বাধীন বিশেষজ্ঞের মত নিতে হবে। সত্যিকারের কোনো আবিষ্কার থাকলে সেটা একাধিক সম্মানিত বিশেষজ্ঞের মুখে আসবে, শুধু চেইন মেসেজে নয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 8. বিশেষজ্ঞ মানুষটা কি সত্যিই বিশেষজ্ঞ? · 2. কোন উৎস?

শেয়ার করার আগে কী করবেন?

একটা স্টেটাস: “একটা সেবামূলক সংস্থা হাসপাতালের বাচ্চাদের সাহায্য করতে দাতা খুঁজছে। বাচ্চাদের খেলনা আর মন ভালো রাখার জিনিস দরকার। ওদের সাহায্য করতে শেয়ার করুন!” সংস্থার কোনো নাম নেই, কোনো সাইট নেই, সত্যিই কীভাবে দেওয়া যায় তাও নেই।

  1. নিজের ঘরে পুরনো খেলনা খোঁজা
  2. বাচ্চাদের জন্য বলেই শেয়ার করা
  3. সংস্থাটার সাইট আর পরিচয় খোঁজা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: সংস্থাটার সাইট আর পরিচয় খোঁজা

কাজটা সত্যিই ভালো হতে পারে, কিন্তু এই সংস্করণটা ঝাপসা। সংস্থাটা হয়তো আছেই, কিন্তু পরিচয় ছাড়া আপনি জানতে পারেন না দানের টাকা সত্যিই সেখানে পৌঁছায় কিনা। তাই আগে সংস্থাটাকে অফিশিয়ালভাবে চিনে নিন: তার সাইট, যোগাযোগের তথ্য, তার প্রতিবেদন খুঁজুন, আর দেখুন এটা একটা সত্যিকারের আর ভালোভাবে চালানো কাজ কিনা। মহৎ কাজের আড়ালে প্রতারণাও লুকিয়ে থাকে। শেয়ার করলে প্রচার হয়, কিন্তু এতে সাহায্য হচ্ছে তার নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারেন না।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 1. কে বলছে?

আতঙ্কিত হওয়ার আগে যাচাই করা কেন দরকার?

জরুরি মেসেজ: “বাচ্চাদের একটা চালু পণ্যে বিপজ্জনক একটা রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এতে মারাত্মক অ্যালার্জি আর চামড়ার সমস্যা হয়। সংখ্যা: জানুয়ারি থেকে ২০০-র বেশি বাচ্চা আক্রান্ত। আপনার বাচ্চাকে এই পণ্য দেবেন না!” পণ্যের নাম নেই, অফিশিয়াল কোনো লিংক নেই।

  1. কারণ সতর্কতাটা পণ্যের নামই বলছে না
  2. কারণ ২০০ সংখ্যাটা কম
  3. কারণ অ্যালার্জি এমন গুরুতর কিছু না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ সতর্কতাটা পণ্যের নামই বলছে না

মেসেজটায় এমন খুঁটিনাটি আছে (“রাসায়নিক”, “২০০ বাচ্চা”) যা এটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে। কিন্তু এটা সবচেয়ে দরকারি তথ্যটাই লুকিয়ে রাখে: কোন পণ্য? কোন রাসায়নিক? কে ধরেছে? একটা বিশ্বাসযোগ্য সতর্কতা পণ্যটার নাম বলে, কোন সংস্থা সমস্যাটা ধরেছে তা বলে, আর একটা অফিশিয়াল উৎসে নিয়ে যায়। পণ্য ফিরিয়ে নেওয়ার সত্যিকারের ঘোষণা অফিশিয়াল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসে। কিছু ফেলে দেওয়ার আগে অফিশিয়াল সাইটে খুঁজে দেখতে হয়। না হলে আপনি শূন্যের ওপর আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো?

সতর্ক করার এই পদ্ধতিতে গোলমালটা কোথায়?

একটা মেসেজ দাবি করে এটা “নিরাপত্তার একটা ভেতরের উৎস” থেকে এসেছে: “ফিশিংয়ের নতুন একটা ঢেউ ধরা পড়েছে। secure-billing.example.net থেকে আসা ইমেলে ক্লিক করবেন না। ওরা আপনার অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে। রিপোর্ট করুন আর পরিচিতদের সতর্ক করুন।” মেলটা একটা সত্যিকারের সতর্কতার মতোই দেখাচ্ছে।

  1. সত্যিকারের সতর্কতা অফিশিয়াল মাধ্যমে আসে
  2. কারণ এটা সরকারের কাছ থেকে আসা উচিত
  3. কারণ একটা নিরাপত্তার ইমেল কখনও ফরওয়ার্ড করতে বলে না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: সত্যিকারের সতর্কতা অফিশিয়াল মাধ্যমে আসে

ছাঁচটা একটা সত্যিকারের কেতাবি সতর্কতার মতো। কিন্তু আসল সতর্কতা উৎসের নিজের কাছ থেকেই আসে (প্রতিষ্ঠান, পরিষেবা), তার যাচাই করা মাধ্যমে (অফিশিয়াল সাইট, অফিশিয়াল ইমেল), নাম-পরিচয়হীন একটা চেইন মেসেজে নয়। “নিরাপত্তার কথা বলছি” দাবি করা একটা চেইন মেসেজ ঠিক এই কৌশলটাই খাটায়: জরুরি আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় বলেই আপনি পাহারা নামিয়ে দেন। নিরাপত্তার পরামর্শ মানার আগে আসল উৎসটা যাচাই করুন।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 1. কে বলছে?

এই মেসেজটা কেন বিশেষভাবে পিছল?

একটা বাচ্চার ছবি দিয়ে একটা মেসেজ (অনলাইনে পাওয়া একটা সাধারণ ছবি): “আপনাদের জন্য আমার অনেক ভালোবাসা। আমি একটা অসুস্থ বাচ্চা আর কাল আমাকে একটা লম্বা অপারেশনের জন্য যেতে হবে। ১০,০০০ মানুষ যদি এই মেসেজটা শেয়ার করেন, আমার হাসপাতাল আমাকে পরিবারের সঙ্গে আরও কিছুদিন থাকতে দেবে। শেয়ার করুন, এতে তো কিছু লাগে না!” স্বাক্ষর: “অনেক ভালোবাসা নিয়ে”।

  1. কারণ এটা বেশি কষ্টের
  2. কারণ এটা আবেগ আর অপরাধবোধ নিয়ে খেলে
  3. কারণ হাসপাতাল কখনও এমন প্রস্তাব দেয় না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ এটা আবেগ আর অপরাধবোধ নিয়ে খেলে

মেসেজটা তিনটে ফাঁদ মেলায়: আবেগ (অসুস্থ বাচ্চা), তাড়াহুড়ো (“কাল”), আর সহজ কাজ (শুধু শেয়ার)। একটা বাচ্চাকে সাহায্য করতে তো কিছুই লাগে না, আর ঠিক সেই অপরাধবোধেই এটা কাজ করে। এটা এমন একটা ভ্রম তৈরি করে যে আপনি সাহায্য করছেন, অথচ কিছুই যাচাই করা যায় না (কোন বাচ্চা? কোন হাসপাতাল?) আর এর পেছনে কোনো অফিশিয়াল ব্যবস্থাও নেই। এটা বছরের পর বছর ধরে পুনর্ব্যবহার হওয়া একটা সাধারণ ছবি। শেয়ার করার আগে যাচাই করুন: মানুষটা, হাসপাতাল, অপারেশনটা কি আমি চিনে নিতে পারছি?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 2. কোন উৎস?

এই ঘটনায় গোলমালটা কোথায়?

স্টেটাস: “একটা বিশ্ববিদ্যালয় সদ্য আবিষ্কার করেছে, একটা গাছ দিয়ে ডায়াবেটিস সারিয়ে ফেলা যায়। লাভ নেই বলেই ওষুধ কোম্পানিগুলো এটা লুকিয়ে রাখছে। গাছটা কীভাবে পাবেন তা এই যে: [লিংক]। জীবন বাঁচাতে শেয়ার করুন!” কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই, কোনো প্রবন্ধ নেই।

  1. কারণ ডায়াবেটিস সারানো সম্ভবই না
  2. কারণ একটা সত্যিকারের আবিষ্কার সবাই জানত
  3. নাম নেই, প্রমাণ নেই, শুধু একটা লিংক
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: নাম নেই, প্রমাণ নেই, শুধু একটা লিংক

মেসেজটা নকল প্রতিশ্রুতির সব ঘর ভরে দিয়েছে: গোপন আবিষ্কার, নামহীন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রমাণ ছাড়াই ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, যাচাই করা যায় না এমন সুস্থ হওয়ার প্রতিশ্রুতি, আর একটা সন্দেহজনক লিংক যা কাজ করতে ঠেলে দেয়। এটা এমনভাবে বানানো, যাতে ভাবার আগেই আবেগে শেয়ার হয়ে যায়। একটা সত্যিকারের বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার স্বীকৃত মেডিকেল জার্নালের প্রথম পাতায় যায়। ঝাপসা একটা মেসেজের লিংক দিয়ে আসে না।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো? · 7. এটা আমাকে কী বেচছে?

এটা কেন একটা ফাঁদ?

মেসেজ: “সবটা বলতে পারছি না, কারণ এটা গোপন, কিন্তু এই ক্ষেত্রে কাজ করা আমার এক পরিচিত বলেছেন খুব শীঘ্রই একটা বড় বদল আসছে। এটা অনেক মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে। তৈরি থাকুন!” খুবই ঝাপসা, অনেক আবেগ।

  1. কারণ কোন ক্ষেত্রের কথা বলা হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে না
  2. কারণ গোপন উৎস বলে কিছু নেই
  3. কারণ এটা উৎসের দাবি করে, খুঁটিনাটি দেয় না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ এটা উৎসের দাবি করে, খুঁটিনাটি দেয় না

“আমি এমন কিছু জানি যা আপনাকে বলতে পারছি না” রহস্য আর ভরসা দুটোই তৈরি করে: আপনি ভাবেন মানুষটার কাছে সত্যিই তথ্য আছে, শুধু তিনি গোপন রাখছেন। মেসেজটা একটা নির্ভরযোগ্য উৎস আছে বলে দাবি করে (“ওই ক্ষেত্রের কেউ”) কিন্তু কোনো খুঁটিনাটি দিতে রাজি নয়, আর তাতেই এটা যাচাই করা বা খণ্ডন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ছড়ানোর আগে জিজ্ঞেস করুন: এই গোপন কথাটা আপনি যাচাই করতে পারেন? না পারলে, এটা শুধু “উৎস” নামের মোড়কে বাঁধা একটা গুজব।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো?

কঠিন

সত্যি হতে পারে কিন্তু অতিরিক্ত শেয়ার হওয়া তথ্যের সামনে ঠিক অভ্যাসটা কী?

গত এক সপ্তাহ ধরে একটা মেসেজ ছড়িয়ে পড়ছে: “সতর্ক থাকুন: কম বয়সীদের মধ্যে হার্টের সমস্যার লক্ষণ চিনে রাখুন। বুকে ব্যথা, দ্রুত শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি। কারও মধ্যে এটা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যের জন্য ফোন করুন। এটা সবসময় গুরুতর না হলেও, যাচাই করতে কিছু খরচ হয় না। প্রতি কত জনে একজনের হয়তো লুকানো সমস্যা থাকে। একটা জীবন বাঁচাতে শেয়ার করুন!” তথ্যটা গুরুত্বপূর্ণ লাগছে, কিন্তু এটা ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকভাবে।

  1. অফিশিয়াল ক্যাম্পেইনটা সত্যিই আছে কিনা দেখা
  2. এটা এত বেশি শেয়ার হয়েছে বলেই উপেক্ষা করা
  3. একটা জীবন বাঁচাতে পারে বলেই শেয়ার করে দেওয়া
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: অফিশিয়াল ক্যাম্পেইনটা সত্যিই আছে কিনা দেখা

এই মেসেজে সত্যি কিছু আছে (কম বয়সীদের মধ্যে হার্টের সমস্যা আসলেই হয়), কিন্তু ব্যাপক শেয়ার একটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভীতি তৈরি করে। সত্যি তথ্যটা বড় হয়ে যায়: “প্রতি কত জনে একজন”, কোন পরিসংখ্যান থেকে? কতটা নির্ভরযোগ্য? তাই দুটো ধাপ: আগে দেখুন কোনো স্বাস্থ্য সংস্থার সত্যিকারের ক্যাম্পেইন এর পেছনে আছে কিনা, তারপর যাচাইয়ের পরও দেখুন এটা অতিরঞ্জিত বা প্রসঙ্গের বাইরে কিনা। থাকলে সেটা বৈধ, আর তখন অফিশিয়াল মেসেজটাই শেয়ার করুন, চেইন-ভার্সনটা নয়। কখনও কখনও ভাইরাল হওয়া মেসেজ মিথ্যা নয়, শুধু বিকৃত।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 9. সংখ্যাটার কি কোনো প্রেক্ষাপট আছে?

যাচাই না করে শেয়ার করা কেন কষ্টের?

হাসিমুখের একটা বাচ্চার ছবি দিয়ে একটা স্টেটাস: “নমস্কার, আমি একটা বিরল রোগে আক্রান্ত একটা বাচ্চা। আমার স্বপ্ন, জন্মদিনের আগে (আর ২ সপ্তাহ) ১০ লাখ শেয়ার হোক, যাতে আমার ইচ্ছেটা পূরণ হয়। আমার পরিবার সব চেষ্টা করে ফেলেছে। ডাক্তাররা বলছেন, আমার চারপাশে যথেষ্ট ভালোবাসা থাকলে আমার শরীর সেরে উঠতে পারে। আপনার ভালোবাসা শেয়ার করুন!” পরিচয়হীন একটা সাধারণ ছবি।

  1. কারণ এটা বেশি কষ্টের
  2. কারণ এটা একটা প্রতারণাও হতে পারে
  3. কারণ ভালোবাসা দিয়ে রোগ সারে না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ এটা একটা প্রতারণাও হতে পারে

মেসেজটা আবেগ (অসুস্থ বাচ্চা, স্বপ্ন) আর ছদ্মবিজ্ঞান (“যথেষ্ট ভালোবাসা” সারিয়ে দেয়) মিলিয়ে দেয়। এটা বছরের পর বছর ধরে পুনর্ব্যবহার হওয়া একটা আবেগের চেইনের চেনা ছাঁচ, প্রায়ই সাধারণ ছবি দিয়ে। উদ্দেশ্য ভালো হলেও, যাচাই না করা একটা গল্প শেয়ার করলে এমন একটা মিথ্যা বা প্রতারণা বড় হয়ে যেতে পারে, যা একটা সত্যিকারের রোগের পিঠে চড়ে উদার মানুষদের ভোলায়। যাচাই করার বিষয়: কোন বাচ্চা? কোন হাসপাতাল? শেয়ার করার আগে নির্দিষ্ট খুঁটিনাটি খুঁজুন।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 6. খুব ভালো হয়ে গেল না তো?

এখানে আসল ফাঁদটা কোথায়?

মেসেজ: “অনেক পণ্য আসে এমন দেশ থেকে, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি কম। আমদানি করা খাবারের একটা বড় অংশে এমন কীটনাশকের অবশেষ থাকে, যেগুলো আমাদের দেশে অনুমোদিত নয়। আর কর্তৃপক্ষ এটা জানে। লেবেল পড়ুন, স্থানীয় জিনিস কিনুন!” সঙ্গে একটা শতাংশ দেওয়া আছে, যা এসেছে এমন একটা প্রবন্ধ থেকে, যা আসলে অন্য কথা বলছে।

  1. কারণ আমদানি করা জিনিস কেনা উচিত না
  2. কারণ কর্তৃপক্ষ সব লুকিয়ে রাখে
  3. প্রসঙ্গ ছাড়া একটা সত্যি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: প্রসঙ্গ ছাড়া একটা সত্যি

মেসেজটা একটা আসল সমস্যার ওপর দাঁড়ায় (আমদানি করা খাবারে কীটনাশকের অবশেষ সত্যিই থাকে) কিন্তু সেটা প্রসঙ্গ ছাড়াই দেখায়: শতাংশটা কার তুলনায় অনেক? এটা কোথায় যাচাই করা হয়েছে? কোন পণ্য? সত্যিকে প্রসঙ্গহীন একটা সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দিলে সত্যির ওপর দাঁড়িয়েই একটা মিথ্যা তাড়াহুড়ো তৈরি হয়, আর তাতেই এটা খণ্ডন করা কঠিন হয়ে পড়ে। শেয়ার করার আগে শতাংশটার আসল উৎস আর তার প্রসঙ্গ খুঁজে দেখুন। যতটা ভয়ের কথা বলা হচ্ছে, এটা কি সত্যিই ততটা?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 9. সংখ্যাটার কি কোনো প্রেক্ষাপট আছে? · 5. আর কে বলছে এই কথা?

এই সাক্ষ্যটা মন টানলেও কেন মিথ্যা হতে পারে?

একটা লম্বা সাক্ষ্য ঘুরছে: “আমি কখনও কথা বলতাম না। একটা গোপন গ্রুপে পাওয়া একটা কথা বলার কৌশল আমার মা ব্যবহার করেন। আমি ৩ মাস অভ্যাস করেছি আর এখন সবার সঙ্গে কথা বলি। মনোবিদরা বিশ্বাসই করতেন না। এখন আমার জীবন বদলে গেছে। এই কৌশলটা এত শক্তিশালী যে এটা লুকিয়ে রাখা হয়। অন্যরাও সাহস পাক, তাই শেয়ার করছি।” আবেগের খুঁটিনাটি ভরা, কিন্তু কোনো পদ্ধতির নাম নেই।

  1. কারণ মনোবিদরা একমত হতেন
  2. কারণ কৌশলটার নামই বলা হচ্ছে না
  3. কারণ ৩ মাস খুব তাড়াতাড়ি
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ কৌশলটার নামই বলা হচ্ছে না

সাক্ষ্যটা একটা সত্যিকারের গল্পের মতো সাজানো: আগে (নীরবতা), নির্দিষ্ট কাজ (৩ মাস), ফল (সবার সঙ্গে কথা বলা)। আবেগের খুঁটিনাটি দিয়ে এটা একটা পুরো আর বিশ্বাসযোগ্য বদলের গল্প বলে, আর তাই এটা মন টানে। কিন্তু সবচেয়ে দরকারি খুঁটিনাটিটাই নেই: কোন কৌশল? কোথায়? কার কাছে? খুঁটিনাটির অনুপস্থিতিই এটাকে যাচাই-অযোগ্য করে। আর “এটা লুকিয়ে রাখা হয়” কথাটা এমন রহস্য যোগ করে, যা এটাকে ছড়িয়ে দেয়। একটা সত্যিকারের চিকিৎসা বা কৌশলের একটা নাম থাকে, একজন চিকিৎসক থাকেন, একটা যুক্তি থাকে; “গোপন গ্রুপ” নয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 8. বিশেষজ্ঞ মানুষটা কি সত্যিই বিশেষজ্ঞ?

একটা সত্যি তথ্য যখন বিকৃত সংস্করণের সঙ্গে মিশে যায়, তখন সমস্যাটা কী?

নিরাপত্তার একটা মেসেজ: “প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে যাওয়া। অফিশিয়াল মাধ্যম থেকে খবর নিতে থাকুন।” এই সত্যি মেসেজটা মিশে যাচ্ছে এমন সংস্করণের সঙ্গে, যেগুলো বলছে “কিছু না ভেবে এখনই পালান, এটা জীবনের প্রশ্ন”, আর আরও কিছু, যেগুলো যোগ করছে “কর্তৃপক্ষ রাস্তা বন্ধ করে দেবে, এখনই বেরিয়ে পড়ুন!”

  1. কারণ অফিশিয়াল সতর্কতা উপেক্ষা করা উচিত
  2. কারণ সবাই আলাদা আলাদা কথা বলছে
  3. হাত ঘুরে সত্যি নির্দেশটা ক্ষয়ে যায়
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: হাত ঘুরে সত্যি নির্দেশটা ক্ষয়ে যায়

আসল নির্দেশটা মাপা আর সুস্থ ছিল। কিন্তু প্রতিটা হাত ঘুরে নতুন করে লেখা হতে হতে (“না ভেবে পালান”, “কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিচ্ছে”) সেটা অকারণ আতঙ্ক হয়ে যায়, আর সবচেয়ে নাটকীয় সংস্করণটার ওপর ভিত্তি করে মিথ্যা তাড়াহুড়ো বা খারাপ সিদ্ধান্ত তৈরি হয়। সত্যিকারের অফিশিয়াল নির্দেশ একটা প্রসঙ্গ দেয় (“আপনি যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকেন”) আর একটা স্পষ্ট অগ্রাধিকার দেয়। ছড়ানোর আগে সরাসরি অফিশিয়াল উৎসটা খুঁজুন, মুখে মুখে ঘোরা সংস্করণটা নয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 3. কোন তারিখ? · 2. কোন উৎস?

অর্ধেক সত্যি, অর্ধেক অনুমান একটা তথ্যের সঙ্গে কীভাবে ভাগ করে দেখবেন?

ভাইরাল একটা প্রবন্ধ: “একটা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিদেশে তার ঠিকাদারদের কাজের শর্ত খারাপ করে দিয়েছে। কয়েক বছর আগে একটা শ্রম সংগঠনের প্রতিবেদনে এটা নথিভুক্ত হয়েছিল, আর সেই প্রতিবেদনের লিংকও দেওয়া আছে। এরপর থেকে শর্ত আরও খারাপ হয়েছে। সদ্য তারা কাজের সময় দিনে ১৮ ঘণ্টা করে দিয়েছে। বয়কট করুন!” শেষ দুটো দাবির সঙ্গে কোনো লিংক নেই, কোনো উৎসের নামও নেই।

  1. যাচাই করা অংশ আর অনুমানটা আলাদা করে দেখা দরকার
  2. প্রথম অংশটা সত্যি বলেই পুরো তথ্যটা শেয়ার করা
  3. আংশিক মিথ্যা বলেই পুরোটা উপেক্ষা করা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: যাচাই করা অংশ আর অনুমানটা আলাদা করে দেখা দরকার

এটাই সবচেয়ে কঠিন ফাঁদ: মেসেজটা একটা সত্যিকারের সমস্যার ওপর দাঁড়িয়ে একটা অনুমানকে বিশ্বাসযোগ্যতা জোগায়। প্রথম দাবির সঙ্গে প্রতিবেদনের লিংক আছে; “দিনে ১৮ ঘণ্টা”-র সঙ্গে কিছুই নেই। এই দুটোকে আলাদা করুন, দ্বিতীয় অংশটার কোনো উৎস আছে কিনা দেখুন, আর শুধু যাচাই করা অংশটাই শেয়ার করুন, বা কোন অংশটার যাচাই দরকার তা বলে দিন। একবার আপনি “সত্যি অংশটা” শেয়ার করে দিলে, মিথ্যাটাও সঙ্গে ঘুরতে থাকে।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 5. আর কে বলছে এই কথা?

সংবেদনশীল বিষয়ে একটা গুরুতর সতর্কবার্তার সামনে কী করা জরুরি?

মেসেজ: “আমাদের এলাকায় একটা দল বাচ্চা তুলে নিতে চাইছে। সন্দেহজনক গাড়ি নিয়ে বাচ্চাদের কাছে যেতে চাওয়া লোকজনের একাধিক খবর এসেছে। বাবা-মাকে ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে হবে।” খুব কম খুঁটিনাটি, শুধু আতঙ্কটাই। মেসেজটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

  1. সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে যাচাই করা
  2. স্থানীয়ভাবে পাহারার ব্যবস্থা করা
  3. বাচ্চাদের বাঁচাতে শেয়ার করা
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে যাচাই করা

বাচ্চাদের নিয়ে সতর্কবার্তা সবচেয়ে জোরালো, কারণ এটা সহজাত রক্ষার তাগিদ জাগিয়ে দেয়। কিন্তু এটাই গুজবের জন্য নিখুঁত মাঠ: নিরাপত্তার প্রতি উদাসীন না শুনিয়ে কেউ এর সমালোচনা করতে পারে না। তাই কাজটা হলো সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বা অফিশিয়াল খবরের কাছে যাচাই করা: একটা সত্যিকারের সতর্কতা সেখানে থাকবে, খুঁটিনাটি দিয়ে (তারিখ, জায়গা, নির্দিষ্ট বর্ণনা); একটা মিথ্যার কোনো অফিশিয়াল উৎস থাকবে না, তাড়াহুড়োর মধ্যেও না। পুরো পাড়াকে আতঙ্কিত করার আগে কর্তৃপক্ষের কাছেই যাচাই করুন।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 1. কে বলছে?

যে ছড়াচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা কেন উৎস যাচাইয়ের জায়গা নিতে পারে না?

বিশ্বাস করা যায় এমন একজন (শিক্ষক, ডাক্তার) শেয়ার করেন: “সহকর্মীদের কাছ থেকে এটা পাচ্ছি আর ব্যাপারটা গুরুতর: নতুন প্রোটোকল অনুযায়ী সিরাম ফেরিটিন ৩০ ng/mL-এর নিচে নামলে মুখে খাওয়ার আয়রন আর দেওয়া যাবে না, সঙ্গে সঙ্গে শিরায় আয়রন দিতে হবে।” মেসেজটা বিশ্বাসযোগ্য কেউ ছড়াচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু কোন প্রোটোকল, কে বদলেছে, মূল উৎসটা কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

  1. কারণ শিক্ষক আর ডাক্তাররা সবসময় ভুল করেন
  2. কারণ তিনিও যাচাই না করেই ছড়াতে পারেন
  3. কারণ কাউকেই কখনও বিশ্বাস করা উচিত না
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ তিনিও যাচাই না করেই ছড়াতে পারেন

বিশ্বাসযোগ্য একজন শিক্ষক বা ডাক্তার একটা মেসেজ ছড়ালে সেটা খুব জোরালো হয়ে ওঠে, আর কেতাবি শব্দগুলো (“সিরাম ফেরিটিন”, “প্রোটোকল”) সেটাকে আরও পাকা দেখায়। কিন্তু যে ছড়াচ্ছে সে নিজেই যাচাই না করে ছড়াতে পারে, আর তার বিশ্বাসযোগ্যতা মূল তথ্যটার নির্ভুলতার নিশ্চয়তা দেয় না: “সহকর্মীদের কাছ থেকে” কথাটা ঝাপসা। চেইনটা এভাবেই তৈরি হয়: তিনি সহকর্মীদের কাছ থেকে পাচ্ছেন, যাঁরা আরও কারও কাছ থেকে পেয়েছেন। শেয়ার করার আগে, এমনকি আপনার ডাক্তার বললেও, জিজ্ঞেস করতে হয়: এটা সত্যিই কোথা থেকে আসছে?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 1. কে বলছে? · 2. কোন উৎস?

নির্দিষ্ট খুঁটিনাটি কেন একটা মিথ্যা খবরকে আরও জোরালো করতে পারে?

মেসেজ: “একটা ছাই রঙের সেডান, নম্বরের অংশ [এবি-১২৩], এই সপ্তাহে তিনবার স্কুলের চারপাশে ঘুরতে দেখা গেছে। পিছনের কাচ কালো করা। চালক নামছে না। এটা সম্ভবত একটা সংগঠিত অপহরণ। পুলিশকে জানানো হয়েছে। সব অভিভাবককে সতর্ক থাকতে হবে।” অনেক খুঁটিনাটি, অফিশিয়াল মনে হচ্ছে।

  1. কারণ গাড়ির নম্বরটা পুরো নয়
  2. কারণ কালো করা কাচ থাকাটা যুক্তিসঙ্গত নয়
  3. কারণ খুঁটিনাটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: কারণ খুঁটিনাটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়

মিথ্যা খবর জোর পায় যখন সেটা খুঁটিনাটিতে ভরা থাকে। “একটা গাড়ি” ঝাপসা। “ছাই রঙের সেডান, এবি-১২৩, কালো করা কাচ” নির্দিষ্ট, তাই যাচাইযোগ্য আর বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, যদিও সিদ্ধান্তটা (“সংগঠিত অপহরণ”) যাচাই না করা একটা লাফ। একটা স্কুলের চারপাশে ঘোরা কারও পক্ষে সম্পূর্ণ বৈধ হতে পারে। মেসেজটা প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্তে লাফিয়ে পড়ে। শেয়ার করার আগে খুঁজে দেখুন: “পুলিশকে জানানো হয়েছে”, সত্যিই? পুলিশ কী বলেছে?

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 9. সংখ্যাটার কি কোনো প্রেক্ষাপট আছে?

এখানে দ্বিধাটা কোথায়?

খুব খুঁটিনাটি ভরা একটা পোস্ট: “একটা খাবার সরবরাহের কোম্পানি এমন একটা কারখানার সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে, যেটা পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক কাজ করে। ওখানে এখন কাজ করা কিছু কর্মী আমাকে বলেছেন, সই হওয়া প্রায় ঠিক। নাম দিতে পারছি না, কারণ ওদের চাকরি চলে যাবে। তাই সই হওয়ার আগে সিদ্ধান্তটার ওপর চাপ দিতে চুপচাপ কথাটা ছড়িয়ে দিন।” বিশ্বাসযোগ্য, কিন্তু যাচাই করা যায় না।

  1. কারণ কারখানা সবসময়ই দূষণ করে
  2. কারণ কর্মীরা কখনও কথা বলেন না
  3. উৎস ছাড়া এটা যাচাই করা অসম্ভব
উত্তর ও ব্যাখ্যা দেখুন

সঠিক উত্তর: উৎস ছাড়া এটা যাচাই করা অসম্ভব

এটাই কঠিন ঘটনা: তথ্যটা সত্যি হতে পারে (আসল চুক্তি, আসল কাজকর্ম), কিন্তু এটা একটা নাম-পরিচয়হীন অভিযোগ। শেয়ার করলে যাচাই না করেই সেটা বড় হয়ে যায়। শেয়ার না করলে একটা সত্যিকারের অন্যায় চুপচাপ ঘটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; শেয়ার করা বা না করা মানে তাই বেছে নেওয়া। ঠিক কাজটা: যাচাই করা যায় এমন তথ্য খোঁজা (কোম্পানিটা আছে কি? কারখানাটা আছে কি?), তারপর আরও কিছু স্বাধীন উৎস খোঁজা। এরপর যেটুকু আপনি দাঁড়িয়ে সমর্থন করতে পারেন সেটাই ছড়ান, পুরো গুজবটা নয়।

সম্পর্কিত অভ্যাস: 2. কোন উৎস? · 10. যদি আমারই ভুল হয়?

কিবোর্ড শর্টকাট

?এই সাহায্য খুলুন
Escপ্যানেল বা সাহায্য বন্ধ করুন
1-3কুইজে একটা উত্তর বাছুন
Enterউত্তর পড়া হয়ে গেলে পরের ঘটনায় যান
Tabলিংক থেকে লিংকে যান, পুরো সাইট কিবোর্ড দিয়েই চলা যায়